, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন তালাবদ্ধ ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, চকরিয়ায় নারী আটক ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হ্যাভেন ৮৭-এর কম্বল বিতরণ কর্মসূচি লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রাতে আধারে ঘুরে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রিপোর্টে ধ্রুমজাল একবছরে ২৫ লক্ষ, চারবছরে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ লালমনিরহাটে তিনটি সংসদীয় আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

কলমাকান্দায় বিশ্ব পানি দিবস পালিত

  • প্রকাশের সময় : ০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
  • ১৪১ পড়া হয়েছে

নাজমুল হক,কলমাকান্দা প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান বারসিক এর উদ্যোগে “হিমবাহ সংরক্ষণ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পানি দিবস ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ৪০ জন নারী পুরুষ। পানি দিবসটিকে কেন্দ্র করে সীমান্তের পানি সংকট ও এর টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে গুঞ্জন রেমা এর সঞ্চালনায় ও জেতেন্দ্র হাজং এর সভাপতিত্বে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নানা প্রতিপাদ্য বিষয় ও নানা আয়োজনে প্রতি বছর সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব পানি দিবস। কিন্ত এই আয়োজন সীমান্তবাসীর জন্য শুধুমাত্র প্রতীকী উদযাপন নয়, বরং তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতার প্রতিফলন। কারণ, সীমান্ত অঞ্চলে পানি সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। সুপেয় পানির অভাব, গৃহস্থালী ও কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এখানকার মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।সীমান্তে পানি সংকটের দৃশ্যপটঃ

সীমান্তবর্তী এলাকার জনজীবনে পানি সংকট এক ভয়াবহ বাস্তবতা। প্রতিদিন এখানকার মানুষকে সুপেয় পানির জন্য লড়াই করতে হয়। গ্রামগুলোর অধিকাংশ ট্উিবওয়েল, কুয়া,কুপ , পুকুর, ছড়া, খাল ও নদী শুকিয়ে গেছে বা দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয়দের অনেকেই কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হন। সীমান্তের বেশিরভাগ অঞ্চলে নলকূপগুলোতে পানি নিচে নেমে গেছে, ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা ছড়া বা নদীর ধারে ক‚য়া খনন করে পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন অথচ এটি আদৌ পরিক্ষিত কোন বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানি কিনা তারা জানেন না। সীমান্তে পানি সংকট কেবল একটি সাময়িক সমস্যা নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট হয়ে উঠছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।সীমান্তবর্তী এলাকার পানি সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। কৃষি, গৃহস্থালি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় জনগণের মতে, এই সংকট সমাধানে সরকারকে দ্রæত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের দিক থেকে যেসব প্রস্তাবনা উঠে এসেছে তা হলো-প্রতিটি গ্রামে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অনুদানে ট্যাংক ও রিজার্ভার স্থাপন।সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিং করে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা।জলাশয়, পুকুর ও খাল পুনর্খননের জন্য বিশেষ সরকারি বরাদ্দ প্রদান।নদী ও খালের ওপর অবৈধ দখল ও দূষণ রোধে কঠোর আইন বাস্তবায়ন।প্রতিটি সীমান্তবর্তী গ্রামে গভীর নলকূপ স্থাপনের সরকারি উদ্যোগ।সীমান্তের কৃষকদের নতুন পানিসঞ্চয় ও সেচ প্রযুক্তি শেখাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা।সীমান্তের পানি সংকট নিরসনে সরকারি বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।পানি অপচয় রোধ ও সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ প্রচারণা চালানো।সুবিমল বলেন” পানির সংকটের আমাদের কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চাই আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তায় নতুন সেচ পদ্ধতির ব্যবস্থা করা হোক। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, খাল ও জলাশয়ের পুনর্খনন জরুরি। আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে অনুরোধ জানাই, যেন সীমান্তবর্তী এলাকার জন্য বিশেষ পানি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়” বারসিক এর উপজেলা সমন্বয়কারী গুঞ্জন রেমা বলেন, বিশ্ব পানি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘হিমবাহ সংরক্ষণ’ যা আমাদের ভবিষ্যৎ পানির নিরাপত্তার জন্য অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর বৃহৎ অংশের মিষ্টি পানি সংরক্ষিত আছে হিমবাহ ও বরফে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এই হিমবাহগুলো দ্রæত গলছে, যা ভবিষ্যতে আমাদের পানির উৎস হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আমরা যারা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাস করি, তাদের জন্য হিমবাহ গলা পানি সরাসরি প্রভাব ফেলে না বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পাহাড়ী ছড়া, নদ-নদী, ভূগর্ভস্থ জলাধার ও বৃষ্টিপাতের ওপরও এই গলন প্রক্রিয়া প্রভাব ফেলছে। হিমবাহ দ্রæত গলে গেলে কিছু সময় পানির প্রবাহ বাড়তে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি পানির অভাব তৈরি করবে। তাই আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পানির সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য স্থানীয় জনগণের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি সহযোগিতা এবং প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এসব উদ্যোগ আরও টেকসই ও কার্যকর হবে। পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করলেই ভবিষ্যতে সীমান্তবাসী এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে পারে।

জনপ্রিয়

ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন

কলমাকান্দায় বিশ্ব পানি দিবস পালিত

প্রকাশের সময় : ০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

নাজমুল হক,কলমাকান্দা প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান বারসিক এর উদ্যোগে “হিমবাহ সংরক্ষণ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পানি দিবস ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ৪০ জন নারী পুরুষ। পানি দিবসটিকে কেন্দ্র করে সীমান্তের পানি সংকট ও এর টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে গুঞ্জন রেমা এর সঞ্চালনায় ও জেতেন্দ্র হাজং এর সভাপতিত্বে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নানা প্রতিপাদ্য বিষয় ও নানা আয়োজনে প্রতি বছর সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব পানি দিবস। কিন্ত এই আয়োজন সীমান্তবাসীর জন্য শুধুমাত্র প্রতীকী উদযাপন নয়, বরং তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতার প্রতিফলন। কারণ, সীমান্ত অঞ্চলে পানি সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। সুপেয় পানির অভাব, গৃহস্থালী ও কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এখানকার মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।সীমান্তে পানি সংকটের দৃশ্যপটঃ

সীমান্তবর্তী এলাকার জনজীবনে পানি সংকট এক ভয়াবহ বাস্তবতা। প্রতিদিন এখানকার মানুষকে সুপেয় পানির জন্য লড়াই করতে হয়। গ্রামগুলোর অধিকাংশ ট্উিবওয়েল, কুয়া,কুপ , পুকুর, ছড়া, খাল ও নদী শুকিয়ে গেছে বা দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয়দের অনেকেই কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হন। সীমান্তের বেশিরভাগ অঞ্চলে নলকূপগুলোতে পানি নিচে নেমে গেছে, ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা ছড়া বা নদীর ধারে ক‚য়া খনন করে পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন অথচ এটি আদৌ পরিক্ষিত কোন বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানি কিনা তারা জানেন না। সীমান্তে পানি সংকট কেবল একটি সাময়িক সমস্যা নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট হয়ে উঠছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।সীমান্তবর্তী এলাকার পানি সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। কৃষি, গৃহস্থালি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় জনগণের মতে, এই সংকট সমাধানে সরকারকে দ্রæত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের দিক থেকে যেসব প্রস্তাবনা উঠে এসেছে তা হলো-প্রতিটি গ্রামে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অনুদানে ট্যাংক ও রিজার্ভার স্থাপন।সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিং করে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা।জলাশয়, পুকুর ও খাল পুনর্খননের জন্য বিশেষ সরকারি বরাদ্দ প্রদান।নদী ও খালের ওপর অবৈধ দখল ও দূষণ রোধে কঠোর আইন বাস্তবায়ন।প্রতিটি সীমান্তবর্তী গ্রামে গভীর নলকূপ স্থাপনের সরকারি উদ্যোগ।সীমান্তের কৃষকদের নতুন পানিসঞ্চয় ও সেচ প্রযুক্তি শেখাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা।সীমান্তের পানি সংকট নিরসনে সরকারি বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।পানি অপচয় রোধ ও সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ প্রচারণা চালানো।সুবিমল বলেন” পানির সংকটের আমাদের কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চাই আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তায় নতুন সেচ পদ্ধতির ব্যবস্থা করা হোক। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, খাল ও জলাশয়ের পুনর্খনন জরুরি। আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে অনুরোধ জানাই, যেন সীমান্তবর্তী এলাকার জন্য বিশেষ পানি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়” বারসিক এর উপজেলা সমন্বয়কারী গুঞ্জন রেমা বলেন, বিশ্ব পানি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘হিমবাহ সংরক্ষণ’ যা আমাদের ভবিষ্যৎ পানির নিরাপত্তার জন্য অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর বৃহৎ অংশের মিষ্টি পানি সংরক্ষিত আছে হিমবাহ ও বরফে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এই হিমবাহগুলো দ্রæত গলছে, যা ভবিষ্যতে আমাদের পানির উৎস হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আমরা যারা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাস করি, তাদের জন্য হিমবাহ গলা পানি সরাসরি প্রভাব ফেলে না বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পাহাড়ী ছড়া, নদ-নদী, ভূগর্ভস্থ জলাধার ও বৃষ্টিপাতের ওপরও এই গলন প্রক্রিয়া প্রভাব ফেলছে। হিমবাহ দ্রæত গলে গেলে কিছু সময় পানির প্রবাহ বাড়তে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি পানির অভাব তৈরি করবে। তাই আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পানির সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য স্থানীয় জনগণের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি সহযোগিতা এবং প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এসব উদ্যোগ আরও টেকসই ও কার্যকর হবে। পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করলেই ভবিষ্যতে সীমান্তবাসী এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে পারে।