, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন তালাবদ্ধ ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, চকরিয়ায় নারী আটক ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হ্যাভেন ৮৭-এর কম্বল বিতরণ কর্মসূচি লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রাতে আধারে ঘুরে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রিপোর্টে ধ্রুমজাল একবছরে ২৫ লক্ষ, চারবছরে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

লালমনিরহাট সমাজসেবা অফিস কক্ষে ডিডি,এডি ও ইউসিডি’র বিছানার কান্ড

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা অফিস কক্ষের ভেতরে উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান (ডিডি) ও সহকারী পরিচালক সামিউল ইসলাম (এডি) সহ শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম (ইউসিডি)’র বিরুদ্ধে বিছানা কান্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ খোদ ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেই সাথে উক্ত তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমাজসেবার বিভিন্ন কর্মসূচী আর প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান, ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সহকারী পরিচালক সামিউল ইসলাম ও  ২০২৪ সালের ১ আগষ্ট শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে রায়হানুল ইসলাম যোগদান করেন।
উক্ত অফিসে যোগদানের পর থেকে সরকারি চাকরি বিধি অনুয়ায়ী প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি ভাবে বাসা ভাড়া সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পায়। তারপরেও ওই তিন কর্মকর্তা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বহুতল ভবন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ৫ম তলার তিনটি কক্ষে অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রেখে আলমারী, আলনা, টেবিল ও রহস্যজনক ডাবল ডাবল খাটের বিছানা পেতে বছরের পর বছর আলিশান ভাবে রাত্রি যাপন করেছেন। অথচ সরকারি ভাবে তিনজনেই প্রতি মাসে বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে ওই অফিসের খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জেলা সমাজসেবার অফিস কক্ষে ডাবল বিছানা পেতে কর্মকর্তাদের আলিশান ভাবে রাত্রি যাপনের বিষয়ে উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যা, আমরা থাকি। সেই সাথে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সার্জিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ্’ এত টাকা ও গাড়ী বাড়ি কোথায় পেল। তা তো আপনারা দেখেন না। মুলত তার এমন বিতর্কিত মন্তব্য সহ অফিসে রাত্রি যাপনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ওই কর্মকর্তার গায়ে ধাক্কা লেগে যায়। তার আগেই লালমনিরহাট থেকে বদলি নিতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
অপরদিকে উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান ও সহকারী পরিচালক সামিউল ইসলামের সহযোগিতায় কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
লালমনিরহাট সদর সমাজসেবা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলামের উপস্থিতিতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সামিউল ইসলাম অফিসে রাত্রি যাপনের কথা স্বীকার করে মুচকি হাঁসি দিয়ে বলেন, নবনির্মিত বহুতল ভবন জেলা সমাজসেবা অফিসটি আজো হস্তান্তর করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আর বহুতল ভবন সমাজসেবা কার্যালয়ের ৫ম তলা আবাসিক করা হয়েছে। তাই তিনজনেই পৃথক পৃথক কক্ষে রাত্রি যাপন করি।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবার বিতর্কিত উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর কথার বাহিরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই তার কথাতেই কিছু অনিয়ম হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর এখন যেমন, সার্জিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ্ এত টাকা ও গাড়ী বাড়ি কোথায় পেল। তা তো দেখেন না আর সেটা তো লেখেনও না। শুধু মাত্র আমাদের পেছনে পড়ে আছেন।
জনপ্রিয়

বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন

লালমনিরহাট সমাজসেবা অফিস কক্ষে ডিডি,এডি ও ইউসিডি’র বিছানার কান্ড

প্রকাশের সময় : ০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা অফিস কক্ষের ভেতরে উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান (ডিডি) ও সহকারী পরিচালক সামিউল ইসলাম (এডি) সহ শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম (ইউসিডি)’র বিরুদ্ধে বিছানা কান্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ খোদ ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেই সাথে উক্ত তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমাজসেবার বিভিন্ন কর্মসূচী আর প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান, ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সহকারী পরিচালক সামিউল ইসলাম ও  ২০২৪ সালের ১ আগষ্ট শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে রায়হানুল ইসলাম যোগদান করেন।
উক্ত অফিসে যোগদানের পর থেকে সরকারি চাকরি বিধি অনুয়ায়ী প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি ভাবে বাসা ভাড়া সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পায়। তারপরেও ওই তিন কর্মকর্তা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বহুতল ভবন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ৫ম তলার তিনটি কক্ষে অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রেখে আলমারী, আলনা, টেবিল ও রহস্যজনক ডাবল ডাবল খাটের বিছানা পেতে বছরের পর বছর আলিশান ভাবে রাত্রি যাপন করেছেন। অথচ সরকারি ভাবে তিনজনেই প্রতি মাসে বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে ওই অফিসের খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জেলা সমাজসেবার অফিস কক্ষে ডাবল বিছানা পেতে কর্মকর্তাদের আলিশান ভাবে রাত্রি যাপনের বিষয়ে উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যা, আমরা থাকি। সেই সাথে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সার্জিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ্’ এত টাকা ও গাড়ী বাড়ি কোথায় পেল। তা তো আপনারা দেখেন না। মুলত তার এমন বিতর্কিত মন্তব্য সহ অফিসে রাত্রি যাপনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ওই কর্মকর্তার গায়ে ধাক্কা লেগে যায়। তার আগেই লালমনিরহাট থেকে বদলি নিতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
অপরদিকে উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান ও সহকারী পরিচালক সামিউল ইসলামের সহযোগিতায় কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
লালমনিরহাট সদর সমাজসেবা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলামের উপস্থিতিতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সামিউল ইসলাম অফিসে রাত্রি যাপনের কথা স্বীকার করে মুচকি হাঁসি দিয়ে বলেন, নবনির্মিত বহুতল ভবন জেলা সমাজসেবা অফিসটি আজো হস্তান্তর করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আর বহুতল ভবন সমাজসেবা কার্যালয়ের ৫ম তলা আবাসিক করা হয়েছে। তাই তিনজনেই পৃথক পৃথক কক্ষে রাত্রি যাপন করি।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবার বিতর্কিত উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর কথার বাহিরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই তার কথাতেই কিছু অনিয়ম হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর এখন যেমন, সার্জিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ্ এত টাকা ও গাড়ী বাড়ি কোথায় পেল। তা তো দেখেন না আর সেটা তো লেখেনও না। শুধু মাত্র আমাদের পেছনে পড়ে আছেন।