, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারাকান্দায় বালিখাঁ ইউনিয়নে ঘর বাড়ি ভাংচুর ফিসারির মাছ লুটপাট কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ

 

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় পশ্চিম বালিখাঁ বরুইবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন প্রতিপক্ষকে চাঁদা না দেয়ায় ২৮ জুন মাসে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একই গ্রামের আবুল হাসেমের পুত্র রফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এর জের ধরেই ঐদিনের রাতের অন্ধকারে মাছ চুরি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর সহ কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের ঘটনা শুরু হয়।

 

সরেজমিনে জানা যায়, তারাকান্দার বালিখাঁ ইউনিয়নে পশ্চিম বালিখা গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ প্রবাসীর বাড়ীঘরসহ বেশকয়েকটি বাড়ীঘর রাতের অন্ধকারে ৩৪ একর ভূমিতে প্রায় ২৩টি ফিসারির মাছ লুটপাট শুরু করা হয়। কয়েকটি পরিবারের ৬-৭টি বিল্ডিং ঘর ভাংচুর করে ব্যপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। ঘরে জিনিসপত্র লুটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ২৮ জুন ২০২৫ তারিখ সকালে সংগঠিত হয়। ঐ দিনের রাত থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত এ লুটপাট ভাংচুর, ২৩টি ফিসারী থেকে মাছ চুরির ঘটনা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ একটি অপরাধের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক ভাবে তদন্ত করলে আরেকটি অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে একের পর এক অপরাধ সংগঠিত হয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

ভূক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান তাদের বাড়ীঘরের আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ স্বর্ণের অলংকার, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, এক টন রড, গরু, ছাগল,হাঁস-মুরগী-ঘরে থাকা,ধান, চাউল সহ লক্ষ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার এ পর্যন্ত লুটপাট করে নিয়ে গেছে আওয়ামী সমর্থিত খলিল গং।

 

তাদের ভয়ে জসিম উদ্দিন এর সন্তানরা পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কৃষি জমিগুলোও অনাবাদী পড়ে আছে।
প্রতিপক্ষের মামলা, হামলায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে জসিম উদ্দিন ও প্রবাসীর পরিবার। ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নেয়ায় নিজ ভিটেতে ফিরতে পারছে না তারা। দীর্ঘদিন ধরে পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা।

 

ভুক্তভোগীরা বলেন আমরা গৃহহীন হয়ে রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন জায়গায় বাস্তুহারা হয়ে জীবন যাপন করছি। আমরা যে থাকবো এমন কোন বাড়িঘর নেই আমাদের। আমাদের সন্তান রা স্কুলে যেতে পারছেনা।

 

বাড়িঘর ভাংচুর এবং ফিসারির মাছ ডাকাতি সহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬/৭ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে প্রতিপক্ষরা। ভুক্তভোগী পরিবার এখন আইনের দ্বারস্থ হয়ে এর সঠিক সমাধান চান প্রশাসন এর কাছে এ ঘটনার বিষয়ে থানায় আইনগত প্রতিকার না পেয়ে আদালতের আশ্রয় গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবার।
তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ টিপু সুলতানকে ফিসারীর মাছ লুটে নেওয়ার বিষয়ে অবগত করলে তিনি বলেন রাতের অন্ধকারে পুলিশ ফোর্স নিয়ে যেতে পারবেন না, এলাকার লোকজন আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।

জনপ্রিয়

তারাকান্দায় বালিখাঁ ইউনিয়নে ঘর বাড়ি ভাংচুর ফিসারির মাছ লুটপাট কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

 

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় পশ্চিম বালিখাঁ বরুইবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন প্রতিপক্ষকে চাঁদা না দেয়ায় ২৮ জুন মাসে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একই গ্রামের আবুল হাসেমের পুত্র রফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এর জের ধরেই ঐদিনের রাতের অন্ধকারে মাছ চুরি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর সহ কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের ঘটনা শুরু হয়।

 

সরেজমিনে জানা যায়, তারাকান্দার বালিখাঁ ইউনিয়নে পশ্চিম বালিখা গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ প্রবাসীর বাড়ীঘরসহ বেশকয়েকটি বাড়ীঘর রাতের অন্ধকারে ৩৪ একর ভূমিতে প্রায় ২৩টি ফিসারির মাছ লুটপাট শুরু করা হয়। কয়েকটি পরিবারের ৬-৭টি বিল্ডিং ঘর ভাংচুর করে ব্যপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। ঘরে জিনিসপত্র লুটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ২৮ জুন ২০২৫ তারিখ সকালে সংগঠিত হয়। ঐ দিনের রাত থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত এ লুটপাট ভাংচুর, ২৩টি ফিসারী থেকে মাছ চুরির ঘটনা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ একটি অপরাধের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক ভাবে তদন্ত করলে আরেকটি অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে একের পর এক অপরাধ সংগঠিত হয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

ভূক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান তাদের বাড়ীঘরের আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ স্বর্ণের অলংকার, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, এক টন রড, গরু, ছাগল,হাঁস-মুরগী-ঘরে থাকা,ধান, চাউল সহ লক্ষ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার এ পর্যন্ত লুটপাট করে নিয়ে গেছে আওয়ামী সমর্থিত খলিল গং।

 

তাদের ভয়ে জসিম উদ্দিন এর সন্তানরা পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কৃষি জমিগুলোও অনাবাদী পড়ে আছে।
প্রতিপক্ষের মামলা, হামলায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে জসিম উদ্দিন ও প্রবাসীর পরিবার। ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নেয়ায় নিজ ভিটেতে ফিরতে পারছে না তারা। দীর্ঘদিন ধরে পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা।

 

ভুক্তভোগীরা বলেন আমরা গৃহহীন হয়ে রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন জায়গায় বাস্তুহারা হয়ে জীবন যাপন করছি। আমরা যে থাকবো এমন কোন বাড়িঘর নেই আমাদের। আমাদের সন্তান রা স্কুলে যেতে পারছেনা।

 

বাড়িঘর ভাংচুর এবং ফিসারির মাছ ডাকাতি সহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬/৭ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে প্রতিপক্ষরা। ভুক্তভোগী পরিবার এখন আইনের দ্বারস্থ হয়ে এর সঠিক সমাধান চান প্রশাসন এর কাছে এ ঘটনার বিষয়ে থানায় আইনগত প্রতিকার না পেয়ে আদালতের আশ্রয় গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবার।
তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ টিপু সুলতানকে ফিসারীর মাছ লুটে নেওয়ার বিষয়ে অবগত করলে তিনি বলেন রাতের অন্ধকারে পুলিশ ফোর্স নিয়ে যেতে পারবেন না, এলাকার লোকজন আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।