, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন তালাবদ্ধ ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, চকরিয়ায় নারী আটক ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হ্যাভেন ৮৭-এর কম্বল বিতরণ কর্মসূচি লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রাতে আধারে ঘুরে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রিপোর্টে ধ্রুমজাল একবছরে ২৫ লক্ষ, চারবছরে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ লালমনিরহাটে তিনটি সংসদীয় আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

 লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে—-বিধ্বস্ত হয়েছে চরাঞ্চল

 

এস.বি-সুজন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

 

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তাল হয়ে উঠেছে তিস্তা নদী। প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত হয়েছে চরাঞ্চলের একমাত্র চলাচলের মাটির বাইপাস সড়ক। পানির তোড়ে হু হু করে প্লাবিত হচ্ছে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা। ইতোমধ্যে ডুবে গেছে ধান ও সবজির খেত, ভেসে গেছে মাছচাষিদের পুকুর।

 

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমা ৫২.১৫ সেন্টিমিটারের ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তা অববাহিকায় জারি করা হয়েছে লাল সংকেত।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার শিঙ্গিমারী ও ধুপড়ি এলাকায় নদীর পানি ঢুকে পড়েছে বসতভিটায়। হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি। স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষজন নৌকা ও ভেলার ওপর নির্ভর করছে।

ডিমলা, জলঢাকা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও পাটগ্রামের চর ও দ্বীপচর এলাকায় ফসলি জমি, বাড়িঘর ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে বন্যার পরিধি আরও বাড়তে পারে।

ভারতের সিকিম, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার এলাকায় ভারী বর্ষণে তিস্তার পানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ভারতের দোমহনী পয়েন্টে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

 

ভারতের কালিম্পং জেলার তারখোলা এলাকায় ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল। তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তাও পানির নিচে। এতে বহু যাত্রী, পর্যটক ও পণ্যবাহী গাড়ির চালক দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

গড্ডিমারী ইউনিয়নের শামসুল আলম জানান, উজানের পানি ঢুকে নিচু এলাকার ঘরবাড়ি প্লাবিত করেছে। গোবরধন গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, “এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। এ বছর এখনো বড় বন্যা হয়নি, কিন্তু এখন যা দেখছি তাতে ভয় লাগছে।”

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্লুইচ গেট খোলা এবং লাল সংকেত জারি করা হয়েছে। নদীতীরবর্তী জনগণকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন

 লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে—-বিধ্বস্ত হয়েছে চরাঞ্চল

প্রকাশের সময় : ০৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

 

এস.বি-সুজন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

 

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তাল হয়ে উঠেছে তিস্তা নদী। প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত হয়েছে চরাঞ্চলের একমাত্র চলাচলের মাটির বাইপাস সড়ক। পানির তোড়ে হু হু করে প্লাবিত হচ্ছে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা। ইতোমধ্যে ডুবে গেছে ধান ও সবজির খেত, ভেসে গেছে মাছচাষিদের পুকুর।

 

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমা ৫২.১৫ সেন্টিমিটারের ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তা অববাহিকায় জারি করা হয়েছে লাল সংকেত।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার শিঙ্গিমারী ও ধুপড়ি এলাকায় নদীর পানি ঢুকে পড়েছে বসতভিটায়। হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি। স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষজন নৌকা ও ভেলার ওপর নির্ভর করছে।

ডিমলা, জলঢাকা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও পাটগ্রামের চর ও দ্বীপচর এলাকায় ফসলি জমি, বাড়িঘর ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে বন্যার পরিধি আরও বাড়তে পারে।

ভারতের সিকিম, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার এলাকায় ভারী বর্ষণে তিস্তার পানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ভারতের দোমহনী পয়েন্টে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

 

ভারতের কালিম্পং জেলার তারখোলা এলাকায় ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল। তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তাও পানির নিচে। এতে বহু যাত্রী, পর্যটক ও পণ্যবাহী গাড়ির চালক দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

গড্ডিমারী ইউনিয়নের শামসুল আলম জানান, উজানের পানি ঢুকে নিচু এলাকার ঘরবাড়ি প্লাবিত করেছে। গোবরধন গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, “এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। এ বছর এখনো বড় বন্যা হয়নি, কিন্তু এখন যা দেখছি তাতে ভয় লাগছে।”

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্লুইচ গেট খোলা এবং লাল সংকেত জারি করা হয়েছে। নদীতীরবর্তী জনগণকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।