, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন তালাবদ্ধ ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, চকরিয়ায় নারী আটক ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হ্যাভেন ৮৭-এর কম্বল বিতরণ কর্মসূচি লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রাতে আধারে ঘুরে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রিপোর্টে ধ্রুমজাল একবছরে ২৫ লক্ষ, চারবছরে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

দুধের বাজারে ঘোষদের সিন্ডিকেট: কম দামে দুধ বিক্রি করে ক্ষতিতে খামারিরা

  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ২০৮ পড়া হয়েছে

এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুধের বাজারে একটি প্রভাবশালী ঘোষ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না স্থানীয় দুধ উৎপাদনকারী খামারিরা—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন খামারিদের কাছ থেকে। পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে যেখানে প্রতি লিটার দুধ ৫৫–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে শেরপুরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩৭–৪৫ টাকায়। ফলে লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে ছোট ও মাঝারি খামারিদের।

‎খামারিদের অভিযোগ, স্থানীয় ঘোষদের একটি সংগঠিত চক্র দুধ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা যে দাম নির্ধারণ করে, তার বাইরে দুধ বিক্রি করা যায় না। উৎপাদন খরচ দিনদিন বাড়লেও দুধের দাম বাড়ছে না; বরং কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন সবাই।

‎এক খামারি বলেন, “গাভী লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। খাবার, ওষুধ, চিকিৎসা—সবকিছুর দাম এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু ঘোষরা যে দাম দেয়, তা দিয়ে কোনোভাবেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় অনেকে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।”

‎এদিকে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ভুসির দাম প্রায় ৫০ টাকা হলেও খামারিরা দুধ বিক্রি করছেন সর্বনিম্ন ৩৭ টাকায়। এতে গাভীর খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

‎এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়াজ কাজমীর বলেন, “খামারিরা দেশের প্রাণ। তারা যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনের সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন। দুধের বাজারে যদি কোনো সিন্ডিকেট খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বাজারে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।”

‎খামারিরা অবিলম্বে বাজারে প্রশাসনিক তদারকি, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দুধ উৎপাদন শিল্প বড় ধরনের ধসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জনপ্রিয়

বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন

দুধের বাজারে ঘোষদের সিন্ডিকেট: কম দামে দুধ বিক্রি করে ক্ষতিতে খামারিরা

প্রকাশের সময় : ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুধের বাজারে একটি প্রভাবশালী ঘোষ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না স্থানীয় দুধ উৎপাদনকারী খামারিরা—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন খামারিদের কাছ থেকে। পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে যেখানে প্রতি লিটার দুধ ৫৫–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে শেরপুরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩৭–৪৫ টাকায়। ফলে লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে ছোট ও মাঝারি খামারিদের।

‎খামারিদের অভিযোগ, স্থানীয় ঘোষদের একটি সংগঠিত চক্র দুধ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা যে দাম নির্ধারণ করে, তার বাইরে দুধ বিক্রি করা যায় না। উৎপাদন খরচ দিনদিন বাড়লেও দুধের দাম বাড়ছে না; বরং কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন সবাই।

‎এক খামারি বলেন, “গাভী লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। খাবার, ওষুধ, চিকিৎসা—সবকিছুর দাম এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু ঘোষরা যে দাম দেয়, তা দিয়ে কোনোভাবেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় অনেকে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।”

‎এদিকে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ভুসির দাম প্রায় ৫০ টাকা হলেও খামারিরা দুধ বিক্রি করছেন সর্বনিম্ন ৩৭ টাকায়। এতে গাভীর খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

‎এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়াজ কাজমীর বলেন, “খামারিরা দেশের প্রাণ। তারা যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনের সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন। দুধের বাজারে যদি কোনো সিন্ডিকেট খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বাজারে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।”

‎খামারিরা অবিলম্বে বাজারে প্রশাসনিক তদারকি, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দুধ উৎপাদন শিল্প বড় ধরনের ধসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।