, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন তালাবদ্ধ ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, চকরিয়ায় নারী আটক ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হ্যাভেন ৮৭-এর কম্বল বিতরণ কর্মসূচি লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রাতে আধারে ঘুরে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রিপোর্টে ধ্রুমজাল একবছরে ২৫ লক্ষ, চারবছরে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

সাভারে কঠোর আন্দোলন, দেশজুড়ে প্রতিবাদ: নার্স–মিডওয়াইফদের ৮ দাবিতে শাটডাউন

  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৩ পড়া হয়েছে

মোঃ শান্ত খান বিশেষ প্রতিনিধি : নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশার কাঠামোগত উন্নয়ন, পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিতের দাবিতে সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন দেশের নার্স ও মিডওয়াইফরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ  সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা–উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর অভ্যন্তরীণ সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন।বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) এবং বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির (বিএমএস) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একযোগে আয়োজিত এই আন্দোলনে সারাদেশের নার্স ও মিডওয়াইফরা অংশ নেন। কর্মসূচির কারণে জরুরি সেবা ছাড়া অধিকাংশ নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সেবাপ্রাপ্ত জনগণ কিছুটা দুর্ভোগে পড়লেও আন্দোলনকারীরা দাবি করেন—“নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ব্যবস্থায় টেকসই সংস্কার না হলে জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

নার্স-মিডওয়াইফ সমাজের উপস্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো

১. স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া বন্ধ এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন।
২. নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেট-আপ ও ক্যারিয়ার পাথ অবিলম্বে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন।
৩. নার্সদের উচ্চতর পদ (৯ম থেকে ৪র্থ গ্রেড) ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি প্রদান।
৪. নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর পদকে অন্যান্য অধিদপ্তরের মতো ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা।
৫. ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফদের সনদকে স্নাতক (পাশ) সমমান দেওয়া এবং সকল গ্র্যাজুয়েট নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য পেশাগত বিসিএস চালু।
৬. বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও নার্সিং-মিডওয়াইফারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগবিধি ও বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং অপ্রশিক্ষিত ও নিবন্ধনবিহীন ভূয়া নার্স-মিডওয়াইফদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা।
৭. নার্স-মিডওয়াইফদের ঝুঁকিভাতা নিশ্চিত করা এবং জোরপূর্বক পরিবর্তিত নার্সিং ইউনিফর্ম বাতিল।
৮. শয্যা, রোগী ও চিকিৎসক অনুপাতে নার্স-মিডওয়াইফদের পদ সৃষ্টি ও পর্যাপ্ত নিয়োগ প্রদান। আন্দোলনরত নার্স ও মিডওয়াইফরা জানান, কাঠামোগত পদোন্নতির অভাব, বেতন-গ্রেডের বৈষম্য, ক্যারিয়ার পাথ না থাকা এবং অধিদপ্তরের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ নানা সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা পেশাগতভাবে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাদের মতে, এসব সমস্যা সমাধান হলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে এবং সেবাপ্রার্থী জনগণ উপকৃত হবেন।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার এই স্থবিরতায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়লেও তারা মনে করেন নার্স ও মিডওয়াইফরা দেশের স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। কর্মসূচি শেষে সংগঠনের নেতারা জানান—দাবি পূরণ না হলে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জনপ্রিয়

বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন

সাভারে কঠোর আন্দোলন, দেশজুড়ে প্রতিবাদ: নার্স–মিডওয়াইফদের ৮ দাবিতে শাটডাউন

প্রকাশের সময় : ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ শান্ত খান বিশেষ প্রতিনিধি : নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশার কাঠামোগত উন্নয়ন, পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিতের দাবিতে সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন দেশের নার্স ও মিডওয়াইফরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ  সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা–উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর অভ্যন্তরীণ সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন।বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) এবং বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির (বিএমএস) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একযোগে আয়োজিত এই আন্দোলনে সারাদেশের নার্স ও মিডওয়াইফরা অংশ নেন। কর্মসূচির কারণে জরুরি সেবা ছাড়া অধিকাংশ নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সেবাপ্রাপ্ত জনগণ কিছুটা দুর্ভোগে পড়লেও আন্দোলনকারীরা দাবি করেন—“নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ব্যবস্থায় টেকসই সংস্কার না হলে জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

নার্স-মিডওয়াইফ সমাজের উপস্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো

১. স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া বন্ধ এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন।
২. নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেট-আপ ও ক্যারিয়ার পাথ অবিলম্বে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন।
৩. নার্সদের উচ্চতর পদ (৯ম থেকে ৪র্থ গ্রেড) ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি প্রদান।
৪. নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর পদকে অন্যান্য অধিদপ্তরের মতো ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা।
৫. ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফদের সনদকে স্নাতক (পাশ) সমমান দেওয়া এবং সকল গ্র্যাজুয়েট নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য পেশাগত বিসিএস চালু।
৬. বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও নার্সিং-মিডওয়াইফারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগবিধি ও বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং অপ্রশিক্ষিত ও নিবন্ধনবিহীন ভূয়া নার্স-মিডওয়াইফদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা।
৭. নার্স-মিডওয়াইফদের ঝুঁকিভাতা নিশ্চিত করা এবং জোরপূর্বক পরিবর্তিত নার্সিং ইউনিফর্ম বাতিল।
৮. শয্যা, রোগী ও চিকিৎসক অনুপাতে নার্স-মিডওয়াইফদের পদ সৃষ্টি ও পর্যাপ্ত নিয়োগ প্রদান। আন্দোলনরত নার্স ও মিডওয়াইফরা জানান, কাঠামোগত পদোন্নতির অভাব, বেতন-গ্রেডের বৈষম্য, ক্যারিয়ার পাথ না থাকা এবং অধিদপ্তরের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ নানা সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা পেশাগতভাবে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাদের মতে, এসব সমস্যা সমাধান হলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে এবং সেবাপ্রার্থী জনগণ উপকৃত হবেন।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার এই স্থবিরতায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়লেও তারা মনে করেন নার্স ও মিডওয়াইফরা দেশের স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। কর্মসূচি শেষে সংগঠনের নেতারা জানান—দাবি পূরণ না হলে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।