এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের পলাতক সভাপতি অধ্যাপক টি.আই.এম নুরুন্নবী তারিক ও সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল সনি'সহ ৩৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের নেতা রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ নভেম্বর রাত্রি ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ধুনট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের ভুবনগাঁতি গ্রামের তিনমাথা মোড়ে মশাল মিছিল নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানসহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুন্নবী তারিক ও সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল সনির নেতৃত্বে ৬০ থেকে ৭০ জন নেতাকর্মী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এর মধ্যেই নতুন করে মামলা হওয়ায় বিএনপি, ছাত্রদল ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে নানা মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলাম তার ফেসবুক মন্তব্যে বলেন, “এ ধরনের মামলায় নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। ধুনটের রাজনৈতিক ঐক্য বিনষ্ট হতে পারে। মিথ্যা মামলা দিয়ে সত্যকে আটকানো যায় না; অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া দরকার।”
ধুনট উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রুহুল আমিন নোমান মন্তব্য করেন, “বর্তমানে দায়ের হওয়া একটি রাজনৈতিক মামলার কারণে ধানের শীষের প্রায় ৫০ হাজার ভোটার প্রভাবিত হয়েছেন। পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং উদ্বেগজনক।” আরও অনেকে মামলাটিকে ‘মামলা বানিজ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধুনট উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, “বিএনপির একটি অংশ ধানের শীষের ভোটের ক্ষতি করতে মিথ্যা মামলা করিয়েছে। এ মামলায় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিরও বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত এখনই বলা যাচ্ছে না।