এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিএনপির সাবেক এমপির গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং পৃথক মশাল মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে থানার পুলিশ।
গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন"- ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও নাংলু গ্রামের মোঃ আমজাদ হোসেনের ছেলে ইবনে সাউদ (৪২), গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চিথুলিয়া গ্রামের মৃত রওশন আলী সরকারের ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী জাহিদুল ইসলাম (৪৮), মানিকপটল গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী আইয়ুব আলী নবীন (৪৫) এবং ধুনট সদর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিলকাজলী গ্রামের মৃত ধীরেন সাধুর ছেলে শ্রী প্রফুল্ল সাধু (৫৮)।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রফুল্ল সাধু মশাল মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ মামলারও অজ্ঞাতনামা আসামি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে তাদের ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর দুপুরে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে ধুনট শহরের কলাপট্টী এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। এ সময় দুটি জিপ, দুটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয় এবং ১০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে বিএনপির অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
ঘটনার পর মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলেও সে সময় তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে প্রায় ছয় বছর পর, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহীন বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগের ৪৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বেলাল হোসেনসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”