, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন তালাবদ্ধ ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, চকরিয়ায় নারী আটক ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হ্যাভেন ৮৭-এর কম্বল বিতরণ কর্মসূচি লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রাতে আধারে ঘুরে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রিপোর্টে ধ্রুমজাল একবছরে ২৫ লক্ষ, চারবছরে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ লালমনিরহাটে তিনটি সংসদীয় আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অনিয়মের সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশ

এস.বি-সুজন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় লালমনিরহাটের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়েছে। মাত্র চার বছরের নিরীক্ষায় ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৯০ টাকা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের তৎকালীন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) (অঃদাঃ) ডাঃ নিশাত-উন-নাহার-কে আপত্তিকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা নির্দেশ দিয়েছে নিরীক্ষা টিম। অভ্যন্তরীণ অডিট টিম পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিরীক্ষা ইউনিট নং-৫৯.১১.০০০০.৬০২.০১.০৭৪.২৩-১১১৭, তাং ০৩.১২.২০২৫ইং।
জানা গেছে, ২০২০-২০২১ থেকে ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালের জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের আওতাধীন লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অডিট করা হয়। যার স্মারক নং-৫৯.১১.০০০০.৬০০.০১.০০১.১৯-৯৪৯, তাং-২৪.০৮.২৫ইং।
ওই অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালের লালমনিরহাট জেলা ও আওতাধীন পরিবার পরিকল্পনা অফিসের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকালে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উন্নয়ন খাতের বাজেট বরাদ্দ হতে পিপিআর-২০০৮ এর বিধিমালার পরিপন্থী ১০ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৯০ টাকার এমএসআর ও ঔষধপত্র ক্রয় সম্পাদন করা হয়েছে। বার্ষিক সংগ্রহ পরিকল্পনা ব্যতিরেকে ক্রয়কৃত মালামাল গ্রহণের জন্য নির্ধারিত কমিটি করা হয়নি।
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট ও আইটি সার্টিফিকেট পাওয়া যায়নি। একক দর ভিত্তিক টেন্ডার মূল্যায়নে মেসার্স অগ্রনী ফার্মেসী সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে নির্ধারিত হয়। কিন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে আয়-ব্যয় কর্মকর্তার অনুকূলে চেক ইস্যু করা হয়েছে। ক্রয়কৃত মালামালের মজুদ ও বিতরণ সংরক্ষণ করা হয়নি। তাছাড়া উক্ত মালামাল দেখাতে পারেননি। যার রেকর্ডপত্র, দরপত্র প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ও অনিয়মিত চিহ্নিত হয়।
২০২৩-২০২৪ আর্থিক সালের লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নয়ন খাতের মোটরযান মেরামত বরাদ্দ থেকে কেন্দ্রের এ্যাম্বুলেন্স গাড়ি নং- লালমনিরহাট ছ-৭১-০০০২ মেরামত বাবদ ৭০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। আর্থিক ক্ষমতা পুনঃ অর্পন আদেশ মোতাবেক যানবাহন মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন গ্রহণ করা হয়নি। তাছাড়া গাড়ী মেরামতের জন্য বিআরটিএ হতে কোন সনদ গ্রহণ করা হয়নি।
২০২০-২০২১ থেকে ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকালে পরিলক্ষিত হয় যে, লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ২০২৩-২০২৪ সালে উন্নয়ন খাতের আসবাবপত্র ক্রয় ও মেরামত বাজেট ১ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য মালামাল ক্রয় করা হয়। যার ব্যয়ের বিল-ভাউচার, মজুদ ও বিতরণ রেজিস্ট্রার নিরীক্ষায় পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ২০২৩-২০২৪ থেকে ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালের নন-ক্লিনিক্যাল/ক্লিনিক্যাল খাতের বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিবিধ মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। লালমনিরহাট সদর ক্লিনিক্যাল ব্যবহার্য দ্রব্যাদি ২৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং গ্যাস ও জ্বালানী ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ের বিতরণ, সম্পদ রেজিস্ট্রার নিরীক্ষায় পেশ করা হয়নি।
লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে তৎকালীন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) (অঃদাঃ) ডাঃ নিশাত-উন-নাহার-কে বেশ কয়েকটি খাতে আপত্তিকৃত ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৯০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা নির্দেশ দিয়েছে নিরীক্ষা টিম।
উক্ত অডিটের সুপারিশ স্থানীয় অফিসের জবাব সন্তোষজনক নয়। তাই আপত্তিকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করতঃ চালানের কপিসহ ব্রডশিট জবাবের নির্দেশ দিয়েছে নিরীক্ষা টিম।
অপরদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (নিরীক্ষা) মোসাঃ মাহফুজা খানম স্বাক্ষরিত ওই অডিট প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ ব্রডশিট জবার প্রেরণের জন্য বলা হয়।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে তৎকালীন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) (অঃদাঃ) ডাঃ নিশাত-উন-নাহারের সাথে মুঠোফোনে যোগোযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কোন অনিয়ম করি নাই। ওই সময়ের অফিস সহকারী মনোয়ারা বেগম আমার স্বাক্ষর নিয়ে অনিয়ম করেছেন। তিনি আপত্তিকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিবেন। আমি নই।
জনপ্রিয়

ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন

লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অনিয়মের সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশ

প্রকাশের সময় : ০২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
এস.বি-সুজন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় লালমনিরহাটের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়েছে। মাত্র চার বছরের নিরীক্ষায় ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৯০ টাকা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের তৎকালীন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) (অঃদাঃ) ডাঃ নিশাত-উন-নাহার-কে আপত্তিকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা নির্দেশ দিয়েছে নিরীক্ষা টিম। অভ্যন্তরীণ অডিট টিম পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিরীক্ষা ইউনিট নং-৫৯.১১.০০০০.৬০২.০১.০৭৪.২৩-১১১৭, তাং ০৩.১২.২০২৫ইং।
জানা গেছে, ২০২০-২০২১ থেকে ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালের জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের আওতাধীন লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অডিট করা হয়। যার স্মারক নং-৫৯.১১.০০০০.৬০০.০১.০০১.১৯-৯৪৯, তাং-২৪.০৮.২৫ইং।
ওই অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালের লালমনিরহাট জেলা ও আওতাধীন পরিবার পরিকল্পনা অফিসের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকালে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উন্নয়ন খাতের বাজেট বরাদ্দ হতে পিপিআর-২০০৮ এর বিধিমালার পরিপন্থী ১০ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৯০ টাকার এমএসআর ও ঔষধপত্র ক্রয় সম্পাদন করা হয়েছে। বার্ষিক সংগ্রহ পরিকল্পনা ব্যতিরেকে ক্রয়কৃত মালামাল গ্রহণের জন্য নির্ধারিত কমিটি করা হয়নি।
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট ও আইটি সার্টিফিকেট পাওয়া যায়নি। একক দর ভিত্তিক টেন্ডার মূল্যায়নে মেসার্স অগ্রনী ফার্মেসী সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে নির্ধারিত হয়। কিন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে আয়-ব্যয় কর্মকর্তার অনুকূলে চেক ইস্যু করা হয়েছে। ক্রয়কৃত মালামালের মজুদ ও বিতরণ সংরক্ষণ করা হয়নি। তাছাড়া উক্ত মালামাল দেখাতে পারেননি। যার রেকর্ডপত্র, দরপত্র প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ও অনিয়মিত চিহ্নিত হয়।
২০২৩-২০২৪ আর্থিক সালের লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নয়ন খাতের মোটরযান মেরামত বরাদ্দ থেকে কেন্দ্রের এ্যাম্বুলেন্স গাড়ি নং- লালমনিরহাট ছ-৭১-০০০২ মেরামত বাবদ ৭০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। আর্থিক ক্ষমতা পুনঃ অর্পন আদেশ মোতাবেক যানবাহন মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন গ্রহণ করা হয়নি। তাছাড়া গাড়ী মেরামতের জন্য বিআরটিএ হতে কোন সনদ গ্রহণ করা হয়নি।
২০২০-২০২১ থেকে ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকালে পরিলক্ষিত হয় যে, লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ২০২৩-২০২৪ সালে উন্নয়ন খাতের আসবাবপত্র ক্রয় ও মেরামত বাজেট ১ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য মালামাল ক্রয় করা হয়। যার ব্যয়ের বিল-ভাউচার, মজুদ ও বিতরণ রেজিস্ট্রার নিরীক্ষায় পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ২০২৩-২০২৪ থেকে ২০২৪-২০২৫ আর্থিক সালের নন-ক্লিনিক্যাল/ক্লিনিক্যাল খাতের বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিবিধ মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। লালমনিরহাট সদর ক্লিনিক্যাল ব্যবহার্য দ্রব্যাদি ২৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং গ্যাস ও জ্বালানী ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ের বিতরণ, সম্পদ রেজিস্ট্রার নিরীক্ষায় পেশ করা হয়নি।
লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে তৎকালীন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) (অঃদাঃ) ডাঃ নিশাত-উন-নাহার-কে বেশ কয়েকটি খাতে আপত্তিকৃত ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৯০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা নির্দেশ দিয়েছে নিরীক্ষা টিম।
উক্ত অডিটের সুপারিশ স্থানীয় অফিসের জবাব সন্তোষজনক নয়। তাই আপত্তিকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করতঃ চালানের কপিসহ ব্রডশিট জবাবের নির্দেশ দিয়েছে নিরীক্ষা টিম।
অপরদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (নিরীক্ষা) মোসাঃ মাহফুজা খানম স্বাক্ষরিত ওই অডিট প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ ব্রডশিট জবার প্রেরণের জন্য বলা হয়।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে তৎকালীন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) (অঃদাঃ) ডাঃ নিশাত-উন-নাহারের সাথে মুঠোফোনে যোগোযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কোন অনিয়ম করি নাই। ওই সময়ের অফিস সহকারী মনোয়ারা বেগম আমার স্বাক্ষর নিয়ে অনিয়ম করেছেন। তিনি আপত্তিকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিবেন। আমি নই।