প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১৫, ২০২৬, ৯:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৫, ২০২৬, ৭:২০ এ.এম
কাজিপুরে চরাঞ্চলে ফসলি জমিতে বাংলা ড্রেজার : প্রতিবাদে মানববন্ধন
কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনার চরাঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বাংলা ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি কাটার মহোৎসব চলছে। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে এলাকা ভিত্তিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট দিন-রাত আবাদি জমির মাটি কেটে বড় বড় গর্ত করায় পাশের জমিতে ধ্বস নেমেছে। এমন অভিযোগ তুলে ৫টি ভুক্তভোগী পরিবারের কৃষক জমির মালিক মানববন্ধন করে।
গতকাল শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর দুইটায় উপজেলার চরাঞ্চলের তেকানী ইউনিয়নের মানিকদাইড় গ্ৰামের ঘটনাস্থলে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বালু তোলা বন্ধ থাকলেও বিশাল পুকুর আকৃতির গর্ত, এবং অবৈধ বাংলা ড্রেজার, দীর্ঘ পাইপ ফিটিংসহ পাওয়া যায়। অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রে অধীক খননের ফলে বিপদজনক খারা ঢালে ধ্বস দেখতে পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, তেকানী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছেন, তার দাবিকৃত সামান্য জমিতে প্রথমে গভীর ড্রেজিং করে, এবং পরবর্তীতে চারপাশের কৃষি জমিতে ধ্বস নামে। অনুরোধে প্রতিকার মেলেনি, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি মাথায় রেখে উপস্থিত জমি মালিক সোলায়মান মুন্সীর ছেলে শাহজামাল (৭০) বলেন, আগেও মানা করা হয়েছে, মানে নাই।
রফিকুলের ছেলে মনির হোসেন (৩০) বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করলে হুমকি ধামকি দেয়, জীবনের নিরাপত্তা কে দিবে।
আলহাজ আহাদের ছেলে লালন মিয়াসহ অন্যান্যরা জানান, আনোয়ার চেয়ারম্যান মূল হোতা, আর অবৈধ বাংলা ড্রেজারের মালিক মজনু, কুরান, মোতাহারসহ ৭ জন। মানা করা সত্ত্বেও আবার ড্রেজিং করা হচ্ছে, এতে তাদের কৃষি ফসলি জমি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। প্রশাসনের কাছে এই অনৈতিক কাজ বন্ধের নিবেদন জানান তারা।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। এটি বন্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সাধারণ মানুষ বা সচেতন মহলের কেউ যদি আমাদের তথ্য প্রদান করেন, আমরা সাথে সাথে সেখানে অভিযান পরিচালনা করার আপ্রাণ চেষ্টা করি। জনস্বার্থে এই অভিযান আগামীতে আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল লোক দেখানো জরিমানা নয়, ফসলি জমি রক্ষায় মাটি কাটা সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অবৈধ মাটি উত্তোলন ও বিপননে একদিকে যেমন হ্রাস পাচ্ছে কৃষিজমি, অন্যদিকে ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেখা দিয়েছে নানা রোগ বালাই।
© আশার দিগন্ত সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কালের বার্তা