, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন তালাবদ্ধ ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, চকরিয়ায় নারী আটক ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হ্যাভেন ৮৭-এর কম্বল বিতরণ কর্মসূচি লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রাতে আধারে ঘুরে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রিপোর্টে ধ্রুমজাল একবছরে ২৫ লক্ষ, চারবছরে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

ভাতিজার হাতে চাচা খুন, দুর্বৃত্তের হাতে ব্যবসায়ী নিহত চকরিয়ায়

  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১১৬ পড়া হয়েছে

আলফাজ মামুন নুরী কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত হলো দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন (৪০) ও হারুনুর রশিদ (৪৫) নামের দুই ব্যক্তি। টানা খুনের ঘটনায় পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রথম খুন : ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার মাতামুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন ছিদ্দিক ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণ পাশে দুর্বৃত্তরা গ্যারেজ মালিক ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করলে এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত গিয়াস উদ্দিন কাকারা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকার গোলাম কাদেরের ছেলে। তিনি টমটম গ্যারেজ ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণ চট্টগ্রামের শীর্ষ গরু চোর, অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসায়ী তৌহিদের সঙ্গে গিয়াস উদ্দিনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

দ্বিতীয় খুন : ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত

এর কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা স্টেশনে ঘটে আরেকটি হত্যাকাণ্ড। বসতভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান সিএনজি চালক হারুনুর রশিদ।

নিহত হারুনুর রশিদ ভেরুয়াখালী পাড়ার (খাসপাড়া) ছাবের আহমদের ছেলে। তার ফুফাতো ভাই শেখ আহমদের ছেলে খোকা তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। এ সময় খোকা ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা হারুনকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আতঙ্কে এলাকা, স্বজনদের আহাজারি

একই দিনে দুই খুনের ঘটনায় চকরিয়া উপজেলায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে, স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন—
“একই দিনে উপজেলায় দুটি হত্যার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরেই হত্যাকাণ্ড দুটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।”

জনমনে আতঙ্ক এই দুই হত্যাকাণ্ডের পর চকরিয়ার সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, অপরাধীরা দ্রুত গ্রেফতার না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

জনপ্রিয়

বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন

ভাতিজার হাতে চাচা খুন, দুর্বৃত্তের হাতে ব্যবসায়ী নিহত চকরিয়ায়

প্রকাশের সময় : ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আলফাজ মামুন নুরী কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত হলো দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন (৪০) ও হারুনুর রশিদ (৪৫) নামের দুই ব্যক্তি। টানা খুনের ঘটনায় পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রথম খুন : ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার মাতামুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন ছিদ্দিক ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণ পাশে দুর্বৃত্তরা গ্যারেজ মালিক ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করলে এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত গিয়াস উদ্দিন কাকারা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকার গোলাম কাদেরের ছেলে। তিনি টমটম গ্যারেজ ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণ চট্টগ্রামের শীর্ষ গরু চোর, অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসায়ী তৌহিদের সঙ্গে গিয়াস উদ্দিনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

দ্বিতীয় খুন : ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত

এর কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা স্টেশনে ঘটে আরেকটি হত্যাকাণ্ড। বসতভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান সিএনজি চালক হারুনুর রশিদ।

নিহত হারুনুর রশিদ ভেরুয়াখালী পাড়ার (খাসপাড়া) ছাবের আহমদের ছেলে। তার ফুফাতো ভাই শেখ আহমদের ছেলে খোকা তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। এ সময় খোকা ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা হারুনকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আতঙ্কে এলাকা, স্বজনদের আহাজারি

একই দিনে দুই খুনের ঘটনায় চকরিয়া উপজেলায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে, স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন—
“একই দিনে উপজেলায় দুটি হত্যার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরেই হত্যাকাণ্ড দুটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।”

জনমনে আতঙ্ক এই দুই হত্যাকাণ্ডের পর চকরিয়ার সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, অপরাধীরা দ্রুত গ্রেফতার না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।