, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ধুনট আল-কুরআন একাডেমিক স্কুলে নতুন প্রিন্সিপালের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাফল্য, সন্তুষ্ট অভিভাবকরা ধুনটে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কন্যা বিক্রির অভিযোগ কাজিপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষ-আহত ১ কাজিপুরে প্যারামাউন্ট কিন্ডারগার্টেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ভয়েস অব কাজিপুরের উদ্যোগে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ভয়েস অব কাজিপুরের উদ্যোগে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কাজিপুরে অধ্যক্ষ এফাজ উদ্দিন তালুকদার খোকা’র ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাজিপুরে অভিযান, গাঁজার গাছসহ আটক ১ বগুড়া পরিত্যক্ত আ.লীগ অফিসে কাজিপুরের চটপটি ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার কাজিপুরে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন তারাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়

লালমনিরহাটে জেলা যুবদলের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

এস.বি-সুজন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

লালমনিরহাট সদরের হারাটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে টাপু সতী নদীর উপর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে লালমনিরহাট জেলা যুবদল। সাঁকো নির্মাণে দুই পাড়ের প্রায় ২০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান, সদস্য সচিব হাসান আলী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হারাটি ইউনিয়নের চোঙাগাড়া টাপুরপাড় এবং মালতাপাড়া গ্রামের মধ্যদিয়ে বয়ে গেছে সতী নদী। নদীটি ওই দুই গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে। নদীর দক্ষিণ পাশে আরাজি টাপুরপাড় গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার এবং নদীর উত্তর পাশে মালতাপাড়া গ্রামে তিন শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছেন।

আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের সতী নদীর স্বর্ণামতি ব্রিজ থেকে কেশোর ঘাট ব্রিজ পর্যন্ত নদীর প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় কোনো ব্রিজ নেই। ফলে যুগের পর যুগ এলাকার মানুষজন বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে খুঁটি গেড়ে বাঁশ বেঁধে তার ওপর দিয়ে চলাচল করে আসছে।

প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতো গ্রামের সব বয়সী শত শত মানুষ। গেলো বর্ষায় নদী পার হতে গিয়ে বাঁশ ভেঙে কোলে থাকা দুধের শিশুসহ নদীতে পড়ে যায় এক মা। পরে গ্রামবাসী মাকে উদ্ধার করতে পারলেও মারা যায় শিশুটি। নদী পার হতে ভয় পেতেন সবাই। নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য নদী পারাপার ছিল আতঙ্কের নাম।

সেখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা বহুবার সরকারি দপ্তরে আবেদন ও যোগাযোগ করলেও কোনো সুফল মেলেনি। অবশেষে স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা নিজ অর্থায়ন এবং শ্রম দিয়ে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থের একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।

টাপুর পার গ্রামের মোখলেছুর রহমান বলেন, আগে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতাম। নদী পার হতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কি না। এখন সেই ভয় কেটে গেছে। যুবদলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।

একই এলাকার বয়োবৃদ্ধ আব্দুল হামিদ বলেন, একটি ব্রিজের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছি। তবে এখন মজবুত একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করায় নদী পারাপারে ভয় ও ভোগান্তি দূর হলো। বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করায় যুবদলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, যুবদল সবসময় জনগণের পাশে থাকে। উন্নয়ন মানে শুধু সরকারের কাজ নয়, মানুষের সেবায় এগিয়ে আসাও দেশপ্রেমের অংশ। এ সময় তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। দল ক্ষমতায় এলে এ এলাকায় সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

ধুনট আল-কুরআন একাডেমিক স্কুলে নতুন প্রিন্সিপালের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাফল্য, সন্তুষ্ট অভিভাবকরা

লালমনিরহাটে জেলা যুবদলের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

প্রকাশের সময় : ০১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

এস.বি-সুজন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

লালমনিরহাট সদরের হারাটি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে টাপু সতী নদীর উপর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে লালমনিরহাট জেলা যুবদল। সাঁকো নির্মাণে দুই পাড়ের প্রায় ২০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান, সদস্য সচিব হাসান আলী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হারাটি ইউনিয়নের চোঙাগাড়া টাপুরপাড় এবং মালতাপাড়া গ্রামের মধ্যদিয়ে বয়ে গেছে সতী নদী। নদীটি ওই দুই গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে। নদীর দক্ষিণ পাশে আরাজি টাপুরপাড় গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার এবং নদীর উত্তর পাশে মালতাপাড়া গ্রামে তিন শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছেন।

আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের সতী নদীর স্বর্ণামতি ব্রিজ থেকে কেশোর ঘাট ব্রিজ পর্যন্ত নদীর প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় কোনো ব্রিজ নেই। ফলে যুগের পর যুগ এলাকার মানুষজন বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে খুঁটি গেড়ে বাঁশ বেঁধে তার ওপর দিয়ে চলাচল করে আসছে।

প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতো গ্রামের সব বয়সী শত শত মানুষ। গেলো বর্ষায় নদী পার হতে গিয়ে বাঁশ ভেঙে কোলে থাকা দুধের শিশুসহ নদীতে পড়ে যায় এক মা। পরে গ্রামবাসী মাকে উদ্ধার করতে পারলেও মারা যায় শিশুটি। নদী পার হতে ভয় পেতেন সবাই। নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য নদী পারাপার ছিল আতঙ্কের নাম।

সেখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা বহুবার সরকারি দপ্তরে আবেদন ও যোগাযোগ করলেও কোনো সুফল মেলেনি। অবশেষে স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা নিজ অর্থায়ন এবং শ্রম দিয়ে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থের একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।

টাপুর পার গ্রামের মোখলেছুর রহমান বলেন, আগে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতাম। নদী পার হতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কি না। এখন সেই ভয় কেটে গেছে। যুবদলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।

একই এলাকার বয়োবৃদ্ধ আব্দুল হামিদ বলেন, একটি ব্রিজের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছি। তবে এখন মজবুত একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করায় নদী পারাপারে ভয় ও ভোগান্তি দূর হলো। বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করায় যুবদলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, যুবদল সবসময় জনগণের পাশে থাকে। উন্নয়ন মানে শুধু সরকারের কাজ নয়, মানুষের সেবায় এগিয়ে আসাও দেশপ্রেমের অংশ। এ সময় তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। দল ক্ষমতায় এলে এ এলাকায় সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।