, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ডিমলায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী পরিদর্শন তালাবদ্ধ ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, চকরিয়ায় নারী আটক ডিমলায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে সেনা সদস্যসহ আটক পাঁচ অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হ্যাভেন ৮৭-এর কম্বল বিতরণ কর্মসূচি লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রাতে আধারে ঘুরে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রিপোর্টে ধ্রুমজাল একবছরে ২৫ লক্ষ, চারবছরে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

কুড়িগ্রামে বাতিল লাইসেন্সে নিকাহ রেজিস্ট্রি, বিবাহ প্রক্রিয়ায় আইনী জটিলতা

  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৪ পড়া হয়েছে

আসাদুজ্জামান,স্টাফ রিপোর্টার : কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নে বাতিল লাইসেন্সে নিকাহনামা রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে গত ১০ নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস স্বাক্ষরিত একটি সতর্কতামূলক নোটিশ জারি করা হয়েছে সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার ও মাওলানা ফয়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফয়েজ উদ্দিনের নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করেন এবং ওই ইউনিয়নে নতুন নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে হোসাইন আহমেদকে নিয়োগ প্রদান করেন। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব পালন করছেন।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন নিজেকে নিকাহ রেজিস্ট্রার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছেন বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারের কাজ। এমনকিন তার ছেলে আমীর হোসেন মামুন ভুয়া বইপত্র তৈরী করে বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে নিকাহ নিবন্ধনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ অনেকের।

এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে জারি করা নোটিশে মাওলানা ফয়েজ উদ্দিনকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “আপনার নামীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত লাইসেন্সের ভিত্তিতে নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম না করার জন্য আপনাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হলো।”

এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার ফয়েজ উদ্দিন বলেন-“এ ঘটনায় আদালতে রিট করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে আমি কাজ করার অনুমতি পেয়েছি।”

তবে তার দাবি কতটুকু বৈধ, সেই বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি। তারা জানায়, সরকারি নথি অনুযায়ী ফয়েজ উদ্দিনের লাইসেন্স বাতিল বহাল রয়েছে। তাই তিনি বিবাহ সম্পর্কিত কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেননা।

স্থানাীয় এলাকাবাসী জানান, বেআইনি নিকাহ রেজিস্ট্রি শুধু প্রতারণার জন্ম দিচ্ছে না; ভবিষ্যতে এসব বিয়ে নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বলছেন, ওই ইউনিয়নের বর্তমান নিকাহ রেজিস্ট্রার আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগে দিয়েছেন, সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

বগুড়ায় হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে দুই দিন ব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন

কুড়িগ্রামে বাতিল লাইসেন্সে নিকাহ রেজিস্ট্রি, বিবাহ প্রক্রিয়ায় আইনী জটিলতা

প্রকাশের সময় : ০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

আসাদুজ্জামান,স্টাফ রিপোর্টার : কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নে বাতিল লাইসেন্সে নিকাহনামা রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে গত ১০ নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস স্বাক্ষরিত একটি সতর্কতামূলক নোটিশ জারি করা হয়েছে সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার ও মাওলানা ফয়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফয়েজ উদ্দিনের নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করেন এবং ওই ইউনিয়নে নতুন নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে হোসাইন আহমেদকে নিয়োগ প্রদান করেন। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব পালন করছেন।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন নিজেকে নিকাহ রেজিস্ট্রার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছেন বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারের কাজ। এমনকিন তার ছেলে আমীর হোসেন মামুন ভুয়া বইপত্র তৈরী করে বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে নিকাহ নিবন্ধনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ অনেকের।

এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে জারি করা নোটিশে মাওলানা ফয়েজ উদ্দিনকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “আপনার নামীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত লাইসেন্সের ভিত্তিতে নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম না করার জন্য আপনাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হলো।”

এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার ফয়েজ উদ্দিন বলেন-“এ ঘটনায় আদালতে রিট করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে আমি কাজ করার অনুমতি পেয়েছি।”

তবে তার দাবি কতটুকু বৈধ, সেই বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি। তারা জানায়, সরকারি নথি অনুযায়ী ফয়েজ উদ্দিনের লাইসেন্স বাতিল বহাল রয়েছে। তাই তিনি বিবাহ সম্পর্কিত কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেননা।

স্থানাীয় এলাকাবাসী জানান, বেআইনি নিকাহ রেজিস্ট্রি শুধু প্রতারণার জন্ম দিচ্ছে না; ভবিষ্যতে এসব বিয়ে নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বলছেন, ওই ইউনিয়নের বর্তমান নিকাহ রেজিস্ট্রার আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগে দিয়েছেন, সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।